আলুর রাজনীতি খ্যাত বিক্রমপুরে বৃষ্টির কারণে আলুর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি।। "গ্রেট বিক্রমপুর"!

   



মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ


দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে খ্যাত মুন্সিগঞ্জ জেলার কৃষকদের চোখে এখন কষ্টের পানি । শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ পরবর্তী নিম্নচাপের প্রভাবে টানা  ২ দিনের টানা বৃষ্টিতে মুন্সিগঞ্জ জেলায় আলু ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আলুর বীজ তলিয়ে গেছে । দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলে এবং জমে থাকা পানি অপসারণ না করা গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সম্প্রতি জমিতে আলুর বীজ লাগানো কৃষকরা । মুন্সিগঞ্জের ৮০ থেকে ৮৫ হাজার কৃষক পরিবার আলু আবাদের সঙ্গে জড়িত । চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৯'শ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে । গত মৌসুমে জেলায় ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে । 



২ দিনের টানা বৃষ্টিতে সিরাজদিখান উপজেলার আলু ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । এ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার আলু চাষী এখন বিপদগ্রস্থ । টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে তাদের স্বপ্ন । লগ্নি করে এবং সুদে টাকা এনে আলু ফসল রোপণ করেছেন অনেক কৃষক । সেই আলু এখন কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে । চাষিরা বলছেন , গত এক সপ্তাহের মধ্যে যারা আলুর বীজ রোপণ করেছিল তারা বেশ ক্ষতির আশংঙ্কায় রয়েছে । উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র মতে , এবার ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে । যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে । টানা বৃষ্টিতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে । সরেজমিন দেখা গেছে উপজেলার বেশীরভাগ জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে । এখনো বৃষ্টি হচ্ছে । বৃষ্টি থামলে কৃষকরা তাদের আলু জমি থেকে পানি সেচের মেশিন লাগিয়ে জমির পানি নিষ্কাশন করবে । 


 

সরেজমিন দেখা গেছে সব উপজেলার বেশীরভাগ জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে । এখনো বৃষ্টি হচ্ছে । বৃষ্টি থামলে কৃষকরা তাদের আলু জমি থেকে পানি সেচের মেশিন লাগিয়ে জমির পানি নিষ্কাশন করবে ।  সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের একজন কৃষকের কাছ থেকে জানতে পারি  সাড়ে ৯ হেক্টর জমিতে আলুর বীজ, সার , শ্রমিক খরচ ও জমি চাষ খরচসহ প্রায় ২৫ লক্ষ থেকে ২৬ লক্ষ টাকা খরচ হয় । বৃষ্টির পানিতে সব জমিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে । লাভের আশায় লগ্নি করে এবং আত্নীয় - স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার এনে আলু চাষ করেছিলাম বৃষ্টি আমার সব কিছু শেষ করে দিল । এ বৃষ্টিতে আলুর বীজের কি অবস্থা তা আল্লাহ জানে । নতুন করে আবার চাষ করতে অনেক টাকা লেগে যাবে । তার উপর সারের দাম , শ্রমিক খরচ কিন্তু বিক্রি করার সময় আলুর দাম না পেলে সব শেষ হয়ে যাবে । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলছেন , নিম্নচাপ এবং অসময়ে বৃষ্টির কারনে সিরাজদিখানে আলু চাষীদের ক্ষতি হয়েছে । তবে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সিরাজদিখানে আলু বপন শুরু হয়েছিল । যে সকল জমিতে আলুর গাছ বা লতাপাতা গজিয়েছে সেই জমিতে ক্ষতি হওয়ার পরিমান কম আর যে সকল জমিতে সপ্তাহখানেকের মধ্যে লাগিয়েছে তাদের ক্ষতির পরিমান বেশী । তাছাড়া তাৎক্ষনিক সমাধানের জন্য আমাদের কৃষি অফিসের অনেক লোক কাজ করছে । আল্লাহ তাআলা আমাদের রহমত করবেন।


Post a Comment

0 Comments